ডিম অনুর্বর হওয়ার কারণ সমূহ আজকের আলোচনার বিষয়। “ডিম অনুর্বর হওয়ার কারণসমূহ [ Causes of egg infertility ]” ক্লাসটি “পোলট্রি রেয়ারিং এন্ড ফার্মিং ২ [ Poultry Rearing & Farming 2 ]” কোর্সের পাঠ্য। “ডিম অনুর্বর হওয়ার কারণসমূহ [ Causes of egg infertility ]” ক্লাসটি এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) [ SSC & Dakhil (Vocational) ] এর ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের [ Chapter 6 ] পাঠ। নিয়মিত ক্লাস পেতে গুরুকুল কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ গুরুকুলে যুক্ত থাকুন।
ডিম অনুর্বর হওয়ার কারণ সমূহ
প্রতিটি প্রাণী ও পশু-পাখি বংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে বছরের পর বছর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। পোল্ট্রির ক্ষেত্রে ডিম হচ্ছে বংশ বৃদ্ধি তথা সংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম। শুধু তাই নয় এটি ব্যবসার সফলতা অথবা ব্যর্থতা নির্ধারণ করে। যে ডিম থেকে পরবর্তীতে বাচ্চা ফোটানো যায় তাকে হ্যাচিং ডিম বলে। হ্যাচিং ডিম হওয়ার পূর্ব শর্ত অবশ্যই নিষিক্ত হতে হবে।

নিষিক্ত না হলে কখনোই সেই ডিম থেকে বাচ্চা হবে না। হ্যাচিং ডিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। সেই সাথে ডিম ফোটানোর পদ্ধতিও জানা প্রয়োজন। হ্যাচিং ডিম পাওয়ার জন্য কি করনীয় তাও জানা অত্যাবশ্যক। নিষিক্ত ডিম পাওয়া ও তা থেকে বাচ্চা উৎপাদন, ডিমের যতœ ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকলে একজন সফল হ্যাচারিম্যান তথা লাভজনক খামারি হওয়া সম্ভব।
এ ইউনিটে ডিম নির্বাচন, ডিম ফোটানো পদ্ধতি, ডিম অনুর্বর হওয়ার কারণ, ডিমের যতœ ও সংরক্ষণের ওপর তত্ত¡ীয় ও ব্যবহারিকসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অনুর্বর ডিম মোরগ মুরগির মিলন ব্যতীত উৎপাদিত ডিমকে অর্নুবর ডিম বা অনিষিক্ত ডিম বলে। ডিম ফোটানোর হার ডিমের উর্বরতার সাথে সম্পর্কিত। অনুর্বর ডিম থেকে কখনও বাচ্চা ফোটে না। এ জন্য ডিম অনুর্বর হওয়ার কারণ জানা প্রয়োজন। নিচে ডিম অনুর্বর হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
১. অপর্যাপ্ত পুষ্টি: মোরগের শুক্রাণু দিয়ে ডিম নিষিক্ত হয়। তাই মোরগের পুষ্টির অভাব হলে বীর্যে মৃত শুক্রাণুর সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে ডিম অনুর্বর হওয়ার সম্ভবনা বাড়ে।
২. মোরগ ও মুরগির অনুপাত: সাধারণত হালকা জাতের ৮-১০টি মুরগির জন্য একটি মোরগ এবং ভারি জাতের ৫-৬টি মুরগির জন্য কমপক্ষে ১টি মোরগ রাখা অত্যাবশ্যক। মোরগ-মুরগির অনুপাত ঠিক না থাকলে প্রজনন হার কমে যায় এবং ডিম নিষিক্ত না হলে বাচ্চা পাওয়া যায় না। লক্ষ্য রাখতে হবে নির্বাচনকৃত মোরগের স্বাস্থ্য যেন ভালো থাকে।
৩. মুরগির বয়স: ডিম পাড়া শুরুর প্রথম ৬-৮ মাস ডিম ফোটানোর হার সবচেয়ে বেশি থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিম ফোটানোর হার কমতে থাকে। তবে মুরগির বয়স এক বছর পর্যন্ত ডিম ফোটানোর হার ভালো থাকে। মোরগের ক্ষেত্রে ১ বছর পর্যন্ত প্রজনন হার ভালো থাকে। বয়স বাড়লে ডিম অনুর্বর হওয়ার সংখ্যা বাড়ে।
৪. আন্তঃপ্রজনন: আন্তঃপ্রজনন বলতে বুঝায় পরিবারের অর্থাৎ খুব কাছের সম্পর্কেও মোরগ-মুরগির মধ্যে প্রজনন। আন্তঃপ্রজননের ফলে অনুর্বতার হার বাড়ে এবং প্রাপ্ত বাচ্চায় বেশির ভাগ থেকে অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যায়।
৫. রোগ ও শারীরিক অক্ষমতা: মোরগ-মুরগির উভয়ের ক্ষেত্রে রোগ একটি বিশেষ কারন যার ফলে ডিম অনুর্বর হতে পারে। রোগাক্রান্ত মুরগির থেকে প্রাপ্ত ডিম অনুর্বর হওয়ার সম্ভবনা থাকে। মুরগির ওজন অতিরিক্ত হলে প্রজনন অঙ্গের মাধ্যমে শুক্রাণু সঠিক জায়গায় পৌঁছাতে পারবে না ফলে ডিম অনুর্বর হয়।
৬. ঋতুর প্রভাব: অতিরিক্ত গরম পড়লে সাময়িকভাবে ডিমের উর্বরতা কমে যায়। শীতকালে পাড়া ডিম গ্রীষ্মকালের ডিমের চেয়ে বেশি উর্বর হয়।
৭. কর্তৃত্ত¡: ঝাঁকের মধ্যে সাধারনত মোরগ মুরগির উপর কর্তৃত্ব খাটিয়ে থাকে। যদি বিপরীত ঘটনা ঘটে তবে মিলন ঘটে না এতে অনুর্বর ডিম উৎপাদন হয়। অন্যদিকে, মোরগ আক্রমণাত্বক হলে মুরগি ভয় পায় এবং লুকিয়ে থাকে, ফলে ডিম অনুর্বর হয়।
৮. ভিটামিন ও খণিজপদার্থের অভাব: মোরগের উর্বরতা বাড়ানোর জন্য খাদ্যে ভিটামিন ও খণিজপদার্থের অভাব পূরণ করা বাঞ্চনীয়। বিশেষ করে খাদ্যে দীর্ঘদিন হতে ভিটামিন ই এর পর্যাপ্ততা না থাকলে মোরগ বন্ধা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়। এতে অনুর্বর ডিম উৎপাদিত হয়।
৯. মোরগের বয়স: অপরিপক্ক মোরগকে প্রজনন কাজে ব্যবহার করলে অনুর্বর ডিম পাওয়া যায়।
১০. মুরগির বাসস্থান: প্রজননের জন্য ব্যবহৃত ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচল থাকতে হবে। বাসস্থানের উপর ডিমের উর্বরতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

