ব্রয়লার মুরগির সংক্রামক রোগ জকের আলোচনার বিষয়। ব্রয়লার মুরগির সংক্রামক রোগ [ Broiler Chicken Infectious Diseases] ক্লাসটি ৯ম শ্রেণীর [ Class 9 ] , ভোকেশনাল [ Vocational ] এর, পোলট্রি রেয়ারিং এন্ড ফার্মিং- ১ (৮০১৩) [ Poultry Rearing & Farming 1 ] কোর্সের, ১৪ অধ্যায়ের পাঠ [ Chapter 14 ] । মুরগির মৃত্যুর হার খুব বেশি এটা মুরগি পালনকারীর কাছে একটা বিরাট সমস্যা। মৃত্যুহার দেখে যে কোনাে পালনকারীর নিরুৎসাহ বোধ করাই স্বাভাবিক।
তবে সতর্ক দৃষ্টিও ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৃত্যুহার কমানো যায়। মাত্র কয়েকটি রোগ ছাড়া অনেক রোগকে ভালো করা যায় না। তাই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা দরকার। রোগাক্রান্ত মুরগিকে সরিয়ে ফেলাই ভালো। কঠিন রোগ ভোগের পর মুরগি ভালো হয়ে গেলেও স্বাভাবিক স্বাস্থ্য কোনোদিনই ফিরে পায় না এবং ডিমপাড়ার হারও উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়। এছাড়া এদের মাধ্যমে ঝাঁকের অন্যান্য মুরগির মধ্যেও রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ব্রয়লার মুরগির সংক্রামক রোগ
ব্রয়লারের রোগ ও রোগের শ্রেণি বিভাগ (Classification of Broiler Doseases) :
পর্যাপ্ত খাদ্য ও উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়ার পরও যদি শরীরের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় তবে তাকে রোগ বলে। অর্থাৎ যেকোনো প্রাণির স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অস্বাভাবিক অবস্থায় রুপান্তরকেই রোগ বলে ।
ব্রয়লার মুরগির অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রোগগুলোকে নিম্নরূপে শ্রেণিবিভাগ করা যা:
- সংক্রামক রোগ (Contagious Diseases)
- অসংক্রামক রোগ (Non-contagious diseases)
- পরজীবী ঘটিত রোগ (Parasitic Diseases)
- অপুষ্টিজনিত রোগ (Malnutritious Diseases)
সংক্রামক রোগ (Contagious Disease)
যে সমস্ত রোগ জীবাণু মাধ্যমে অসুস্থ পাখি থেকে সুস্থ পাখিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সেগুলোকে সংক্রামক রোগ বলে। এদেরকে নিম্নলিখিত ভাবে ভাগ করা যায়, যথা-

২. অসংক্রামক রোগ (Non-contagious diseases) :
যে সমস্ত রোগ জীবাণু বা জীবিত বস্তুর উপস্থিতি ছাড়া জীব দেহে হঠাৎ যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে অসংক্রামক রোগ বলে।
৩. পরজীবী (Parasites) জনিত রোগ:
পরজীবী এক ধরনের জীব যা অন্য জীব দেহে বসবাস করে জীবন ধারন করে। যে জীবের দেহের উপর এরা জীবন ধারন করে তাদেরকে হোস্ট বা গোষক বলে। কিছু পরজীবী আছে যারা পোষকের দেহের ভিতরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বসবাস করে ক্ষতিসাধন করে। এদেরকে দেহাভ্যন্তরের পরজীবী বলে। আবার কিছু পরজীবী আছে যারা পোষকের দেহের বাহিরের অঙ্গে বসবাস করে ক্ষতি সাধন করে । এদেরকে বহিঃদেহের পরজীবী বলে। উভয় পরজীবী আক্রমণের ফলে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এরা পাখির দেহে বসবাস করে পাখি কর্তৃক খাওয়া পুষ্টিকর খাদ্য নিজেরা খেয়ে ফেলে, ফলে আক্রান্ত পাখি পুষ্টি হীনতায় ভোগে। অনেক পরজীবী পাখির দেহে বসবাস করে রক্ত তবে নেয়, ফলে আক্রান্ত পাখির দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
পরজীবী দুই প্রকার:
১. অন্তঃপরজীবী: কৃমি
২. বহিঃপরজীবী: উকুন, আটালী, মাইট।

অপুষ্টি জনিত রোগ (Malnutrition):
গৃহপালিত পাখি পালনের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হল পাখিকে সুষম খাদ্য প্রদান করা। পাখির মাংস ও ডিম উৎপাদন এবং দৈনিক বৃদ্ধি সাধনের জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্যের মধ্যে যেকোনো খাদ্যে উপকরণের অভাব হলে মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাঘাত ঘটে, ডিম ও মাংস উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায় এমনকি পাখির মৃত্যুও হতে পারে। অপুষ্টি জনিত রোগঃ জেরোপথ্যালামিয়া, প্যারালাইসিস, পেরোসিস, ক্যানাবলিজম, রিকেট ।
