কবুতর পালন ব্যবস্থাপনা | পোল্ট্রি রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং

কবুতর পালন ব্যবস্থাপনা আজকের আলোচনার বিষয়। “কবুতর পালন ব্যবস্থাপনা [ Pigeon Rearing Management ]” ক্লাসটি “পোলট্রি রেয়ারিং এন্ড ফার্মিং ২ [Poultry Rearing & Farming 2]” কোর্সের পাঠ্য। “কবুতর পালন ব্যবস্থাপনা [ Pigeon Rearing Management ]” ক্লাসটি দশম শ্রেণীর [ Class 10 ], ২য় অধ্যায়ের [ Chapter 2 ] পাঠ। নিয়মিত ক্লাস পেতে গুরুকুল কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ গুরুকুলে যুক্ত থাকুন।

 

কবুতর পালন ব্যবস্থাপনা

কবুতর পালন করার জন্য অতিরিক্ত কোনো খরচ হয় না। কবুতরকে সহজেই পোষ মানানো যায়। বাড়ির যেকোনো কোণ বা আঙিনা অথবা বাড়ির ছাদ কিংবা কার্নিশের মতো ছোট বা অল্প জায়গাতে ও কবুতর পালন করা যায়। এমনকি ছাদের সঙ্গে ঝুড়ি ঝুলিয়েও কবুতর পালন করা সম্ভব।

কবুতরের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং শক্তি বর্ধক। অন্যান্য পাখির মাংসের চাইতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। ফলে আমিষের পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্যেও কবুতরের মাংস খাওয়া হয়ে থাকে।

বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে অনেকেই অল্প সময়ে লাভ জনক ব্যবসা হিসেবে দাঁড় করাতে পেরেছেন। কবুতর সাধারণভাবে জোড়ায় বেঁধে বাস করে। প্রতি জোড়ায় একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী কবুতর থাকে। এরা ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন এরা ডিমের মাধ্যমে বাচ্চা প্রজনন করে থাকে। ডিম পাড়ার পর স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কবুতরই পর্যায়ক্রমে ডিমে তা দেয়। কবুতরের কোনো জোড়া হঠাৎ ভেঙে গেলে সেই জোড়া তৈরি করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। নতুন জোড়া তৈরি করার জন্য স্ত্রী ও পুরুষ কবুতরকে একঘরে কিছুদিন রাখতে হয়।

 

কবুতর পালন ব্যবস্থাপনা

 

কবুতর পালনের বিভিন্ন সুবিধা ও বাসস্থান

ভালো বাসস্থান কবুতর পালনের জন্য খুবই দরকারী। উত্তম নিষ্কাশন, পর্যাপ্ত সূর্যের আলো এবং বাতাস চলাচল আছে এরকম উঁচু এবং বালুময় মাটিতে কবুতরের ঘর করতে হয়। যা খামারির আবাসস্থল থেকে ২০০ থেকে ৩০০ ফুট দুরে ও দক্ষিণমূখী হওয়া উচিত।

মাটি থেকে ঘরের উচ্চতা ২০ থেকে ২৪ ফুট এবং খাচার উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুট হওয়া ভালো।

অল্প খরচে সহজে ঘর তৈরি এবং স্থানান্তরযোগ্য যা কাঠ, টিন, বাঁশ, খড় ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা যায়। খামারের ভিতরে নরম, শুষ্ক খড়-কুটা রেখে দিলে তারা ঠোঁটে করে নিয়ে নিজেরাই বাসা তৈরি করে নেয়।

ডিম পাড়ার বাসা তৈরির জন্য ধানের খড়, শুকনো ঘাস, কচি ঘাসের ডগাজাতীয় উপাদান দরকার হয়। খোপের ভিতর মাটির সরা বসিয়ে রাখলে কবুতর সরাতে ডিম পাড়ে এবং বাচ্চা ফুটায়।

সাধারণত একটি ভালো জাতের কবুতর বছরে ১২ জোড়া ডিম দিতে সক্ষম। এই ডিমগুলোর প্রায় প্রতিটি থেকেই বাচ্চা পাওয়া যায়। এই বাচ্চা ৪ সপ্তাহের মধ্যেই খাওয়া বা বিক্রির উপযোগী হয়।

 

একটি পূণাঙ্গ বয়সের কবুতর ডিম দেবার উপযোগী হতে ৫ থেকে ৬ মাস মসয় লাগে।

কবুতরের ডিম থেকে মাত্র ১৮ দিনেই বাচ্চা সাধারণ নিয়মে ফুটে থাকে। এই বাচ্চাই ৫ থেকে ৬ মাস পরে নিজেরাই ডিম প্রদান শুরু করে। ফলে কবুতর বংশ পরম্পরায় প্রাকৃতিক নিয়মে নিজেরাই বাড়াতে থাকে নিজেদের সংখ্যা।

দেশি কবুতরের মাংস প্রচুর চাহিদা রয়েছে। একটি খুব ভালো প্রজাতির কবুতর লালন করলে ১ বছরের মধ্যে সেই জোড়া থেকে কয়েক জোড়া কবুতর পাওয়া খুব বেশি আর্শ্চযজনক বিষয় নয়।

 

কবুতর পালন 2 কবুতর পালন ব্যবস্থাপনা | পোল্ট্রি রিয়ারিং অ্যান্ড ফার্মিং

 

কবুতর পালন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত ঃ

 

Leave a Comment