খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা | পোলট্রি রেয়ারিং এন্ড ফার্মিং

খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা আজকের আলোচনার বিষয়। “খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা [ Advantages and disadvantages of keeping Koel in cage ]” ক্লাসটি “পোলট্রি রেয়ারিং এন্ড ফার্মিং ২ [ Poultry Rearing & Farming 2 ]” কোর্সের পাঠ্য। “খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা [ Advantages and disadvantages of keeping Koel in cage ]” ক্লাসটি এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) [ SSC & Dakhil (Vocational) ] এর ৪র্থ অধ্যায়ের [ Chapter 4 ] পাঠ। নিয়মিত ক্লাস পেতে গুরুকুল কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ গুরুকুলে যুক্ত থাকুন।

 

খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা

খাঁচায় কোয়েল পালন

এই পদ্ধতিতে লোহা,জি আই তার দিয়ে কোয়েলের জন্য বিশেষভাবে খাঁচা তৈরি করা হয়ে থাকে।তবে কেউ চাইলে বাঁশ-কাঠ দিয়েও খাঁচা বানাতে পারে।তবে লোহার খাঁচা টেকসই ও ভাল হবে। খাঁচায় মেঝে সামনের দিকে হাল্কা ঢালু করে তৈরি করা হয় যাতে পাখি খাঁচায় ডিম পাড়লে ডিম গড়িয়ে যেন সামনে চলে আসে। খাঁচার একপাশে লম্বা ভাবে তৈরি খাবার পাত্র ও পানির পাত্র লাগানো থাকে।

 

কোয়েল পাখি 1 খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা | পোলট্রি রেয়ারিং এন্ড ফার্মিং

 

আমাদের দেশে কোয়েলের যে বানিজ্যিক খাঁচা পাওয়া যায় সে সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ

খাঁচার দৈর্ঘ্যঃ ৬ ফুট
খাঁচার প্রস্থঃ ২.৫ ফুট (ভিতরের জায়গা ২ ফুট আর বাইরের সামনের দিকের ডিমের ট্রে ০.৫ ফুট।
খাঁচায় তাকের সংখ্যাঃ ৫ টি।
প্রতিটি তাকের উচ্চতাঃ ১০-১২ ইঞ্চি
প্রতিটি তাকে পাখির রাখা যায়ঃ ১০০ টি।
একটা খাঁচায় মোট পাখি রাখা যায়ঃ ৫০০ টি।
৫০০ পাখির খাঁচা তৈরির আনুমানিক খরচঃ ১৪-১৮ হাজার টাকা।
খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা

খাঁচায় কোয়েল পালন সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত আর সহজ।

কারন-

  • ডিম গড়িয়ে এসে ট্রে তে জড়ো হয়।ফলে ডিম সংগ্রহ করা সহজ।
  • ডিম ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
  • সহজেই খাবার ও পানি দেয়া যায়।
  • পায়খানা বা মল খাঁচার প্রতি তলার নিচে রাখা ট্রে তে পড়ে।ফলে মল বা পায়খানা পরিষ্কার করা অতি সহজ।
  • অল্প জায়গায় একটা খাঁচায় পাঁচ তাক করে ফ্লোরের চেয়ে পাঁচ গুন বেশি পাখি পালা যায়।
  • রোগ বালাই কম হয়।কারন পায়খানা নিয়মিত ট্রে থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।
  • খাঁচার নেটের ফাঁকা ছোট হওয়ায় ইঁদুর ঢুকতে পারে না।
  • ঘন ঘন লিটার পরিস্কার করার ঝামেলা থাকে না।
  • খাঁচায় পালন করলে এমোনিয়া গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা নাই।
  • পাখির দৈহিক চাকচিক্য বজায় থাকে।
  • পাখির পালক সহজে পড়ে যায় না।

 

খাঁচায় কোয়েল পালনের অসুবিধা

খাঁচায় কোয়েল পালনের অসুবিধা নেই বললেই চলে।তবে খাঁচায় পালন করতে হলে কিছু বিষয় আগেই জেনে রাখা উচিত।

যেমন-

  • লোহার খাঁচা তৈরি করতে বেশি মূলধন লাগে।
  • আবার বাঁশের খাঁচা তৈরি করলে বেশিদিন টেকসই হয় না।
  • খাঁচা তৈরির খরচ বাদে ও আবার সেই খাঁচা রাখার জন্য লিটার পদ্ধতির মত একটা সেড তৈরি করা লাগে।ফলে খরচ লাগে বেশি।
  • নিয়মিত খাঁচার মলের বা পায়খানার ট্রে পরিষ্কার না করলে প্রচুর দূর্গন্ধ হয়।

কোন পদ্ধতিতে কোয়েল পালন লাভজনক???

লিটার পদ্ধতিতে কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা এবং খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা জানার পরে এখন সিদ্ধান্ত আপনার।উপরোক্ত সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করেই আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী খামার করতে পারেন।

তবে লেখক হিসেবে নয়;একজন খামারী হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাকে পরামর্শ দিব –খাঁচায় কোয়েল পালন করতে। তবে শুরুতে, পরীক্ষামুলকভাবে ৫০০ পাখি লিটারে/ফ্লোরে পালন করে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পরেই আপনি যখন বানিজ্যিক আকারে বড় ফার্ম করবেন, কেবলমাত্র তখনি আপনি খাচায় পালনের সিদ্ধান্ত নিবেন।

কেননা, শুরুতেই আপনি ৫০০ পাখির জন্য ১৫ হাজার টাকা দিয়ে একটা খাঁচা তৈরি করে শুরু করে দিলেন আর দেখা গেল আপনি এডজাস্ট না করতে পেরে খামার বন্ধ করে দিলেন, তখন আপনার খাঁচা টা ও আপনি কম দামে বিক্রি করে দিতে হবে। তাই আগে খাচায় না করে পরীক্ষামুলকভাবে ফ্লোরে শুরু করুন।

 

খাঁচায় কোয়েল পালনের

 

খাঁচায় কোয়েল পালনের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত ঃ

Leave a Comment